গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় -Under সমস্ত কলেজ।
B.A SEMESTER -1
সাবজেক্ট: Bangla (MC-2)
সিলেবাস: Bhasatatwa
examguru.info
B.A SEMESTER -1
সাবজেক্ট: Bangla (MC-2)
সিলেবাস: Bhasatatwa
examguru.info
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার ভাষাতাত্ত্বিক ধ্বনিতাত্ত্বিক ও রূপতাত্বিক বৈশিষ্ট্য গুলি উদাহরণসহ লেখ।
উত্তর: ভূমিকা
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা বলতে মূলত বৈদিক সংস্কৃত ও ক্লাসিক্যাল সংস্কৃত ভাষাকে বোঝানো হয়। এই ভাষাগুলি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের অন্তর্গত। প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার ভাষাতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য প্রধানত ধ্বনিতত্ত্ব ও রূপতত্ত্ব—এই দুই ভাগে আলোচনা করা যায়।
১. ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
ধ্বনিতত্ত্ব বলতে ভাষার ধ্বনি, উচ্চারণ ও ধ্বনিগত নিয়ম বোঝায়। প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্যগুলি নিচে দেওয়া হলো—
১.১ স্বরধ্বনির বৈচিত্র্য
এই ভাষায় স্বরধ্বনি ছিল সুস্পষ্ট ও সমৃদ্ধ।
স্বরধ্বনি: অ, আ, ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ
স্বরধ্বনির হ্রস্ব ও দীর্ঘ ভেদ ছিল
উদাহরণ:
ই (হ্রস্ব) — ইতি
ঈ (দীর্ঘ) — ঈশ্বর
১.২ ব্যঞ্জনধ্বনির শ্রেণিবিভাগ
ব্যঞ্জনধ্বনিগুলি উচ্চারণস্থানের ভিত্তিতে পাঁচ ভাগে বিভক্ত—
কণ্ঠ্য: ক, খ, গ
তালব্য: চ, ছ, জ
মূর্ধন্য: ট, ঠ, ড
দন্ত্য: ত, থ, দ
ওষ্ঠ্য: প, ফ, ব
উদাহরণ:
কণ্ঠ্য ধ্বনি — কর্ম
দন্ত্য ধ্বনি — দেব
১.৩ মহাপ্রাণ ও অল্পপ্রাণ ধ্বনি
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষায় মহাপ্রাণ ও অল্পপ্রাণ ধ্বনির স্পষ্ট পার্থক্য ছিল।
উদাহরণ:
অল্পপ্রাণ — ক
মহাপ্রাণ — খ
১.৪ স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি
এই ভাষায় সন্ধি নিয়ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
উদাহরণ:
স্বরসন্ধি: দেব + ইন্দ্র = দেবেন্দ্র
ব্যঞ্জনসন্ধি: সৎ + জন = সজ্জন
২. রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
রূপতত্ত্ব বলতে শব্দের গঠন, রূপান্তর ও ব্যাকরণগত রূপ বোঝায়।
২.১ বিভক্তি প্রথা
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষায় ৮টি কারক বিভক্তি ছিল।
প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী, সপ্তমী, সম্বোধন
উদাহরণ:
রামঃ (প্রথমা)
রামম্ (দ্বিতীয়া)
২.২ লিঙ্গভেদ
এই ভাষায় তিনটি লিঙ্গ ছিল—
পুংলিঙ্গ
স্ত্রীলিঙ্গ
নপুংসকলিঙ্গ
উদাহরণ:
পুংলিঙ্গ — রামঃ
স্ত্রীলিঙ্গ — সীতা
নপুংসকলিঙ্গ — ফলম্
২.৩ বচনভেদ
তিন ধরনের বচন ব্যবহৃত হতো—
একবচন
দ্বিবচন
বহুবচন
উদাহরণ:
একবচন — গজঃ
দ্বিবচন — গজৌ
বহুবচন — গজাঃ
২.৪ ধাতু ও ক্রিয়ার রূপ
ক্রিয়া গঠিত হতো ধাতুর সঙ্গে প্রত্যয় যোগ করে।
উদাহরণ:
ধাতু: √গম্ (যাওয়া)
ক্রিয়া: গচ্ছতি
উপসংহার
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা ধ্বনিগত ও রূপগত দিক থেকে অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও নিয়মবদ্ধ ছিল। এর সুসংগঠিত ধ্বনিতত্ত্ব ও জটিল রূপতত্ত্ব পরবর্তী পালি, প্রাকৃত, অপভ্রংশ এবং আধুনিক ভারতীয় ভাষার ভিত্তি রচনা করেছে। তাই ভাষাতত্ত্বের ইতিহাসে প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষার গুরুত্ব অপরিসীম।
প্রাচীন বাংলার কালসীমা উল্লেখ করে এই পর্বের ভাষার লক্ষণগুলি উদাহরণসহ সহযোগে আলোচনা করে। এই ভাষার দৃষ্টান্ত কোথায় দেখতে পাওয়া যায়?
উত্তর: ভূমিকা
বাংলা ভাষার ইতিহাসকে সাধারণত তিনটি পর্বে ভাগ করা হয় প্রাচীন বাংলা, মধ্য বাংলা ও আধুনিক বাংলা। এর মধ্যে বাংলা ভাষার প্রথম বিকশিত রূপকে বলা হয় প্রাচীন বাংলা। এই পর্বের ভাষা চর্যাপদের মাধ্যমে আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে।
প্রাচীন বাংলার কালসীমা
ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে—
প্রাচীন বাংলার কালসীমা:
👉 খ্রিস্টীয় ৯ম শতাব্দী থেকে ১২শ শতাব্দী পর্যন্ত
এই সময়ে বাংলা ভাষা অপভ্রংশ স্তর থেকে পৃথক হয়ে নিজস্ব বৈশিষ্ট্য অর্জন করে।
প্রাচীন বাংলার ভাষার লক্ষণ
প্রাচীন বাংলার ভাষার প্রধান লক্ষণগুলি নিচে উদাহরণসহ আলোচনা করা হলো—
১. অপভ্রংশ ও প্রাকৃতের প্রভাব
প্রাচীন বাংলার ভাষায় অপভ্রংশ ও প্রাকৃত ভাষার প্রভাব স্পষ্ট।
উদাহরণ:
সংস্কৃত কর্ম → অপভ্রংশ কম্ম → প্রাচীন বাংলা কম্ম
পুত্র → পুত
২. বিভক্তির সরলতা
সংস্কৃতের জটিল বিভক্তি প্রথা প্রাচীন বাংলায় অনেকটাই সরল হয়ে যায়।
উদাহরণ:
সংস্কৃত: রামের গৃহে
প্রাচীন বাংলা: রামের ঘরে
৩. ক্রিয়াপদের সরল রূপ
ক্রিয়াপদের রূপ আধুনিক বাংলার মতো সরল হতে শুরু করে।
উদাহরণ:
করই (আমি করি)
যাই (আমি যাই)
৪. সর্বনাম শব্দের ব্যবহার
প্রাচীন বাংলায় আধুনিক বাংলার মতো সর্বনাম ব্যবহারের সূচনা দেখা যায়।
উদাহরণ:
আমি
তুমি
(চর্যাপদে এই ধরনের রূপ লক্ষ্য করা যায়)
৫. দেশজ শব্দের ব্যবহার
এই পর্বে সংস্কৃত শব্দের পাশাপাশি দেশজ শব্দের ব্যবহার বেড়ে যায়।
উদাহরণ:
ঘর
মন
জল
৬. ধ্বনিগত পরিবর্তন
ধ্বনির সরলীকরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
উদাহরণ:
সংস্কৃত ভক্তি → ভত্তি
সপ্ত → সাত
৭. বাক্য গঠনের সরলতা
বাক্য গঠন ছোট ও সরল হয়।
উদাহরণ:
গুরু কহে শিষ্য শুনে (চর্যাপদের ধাঁচে)
প্রাচীন বাংলার ভাষার দৃষ্টান্ত
প্রাচীন বাংলার ভাষার প্রধান ও প্রায় একমাত্র দৃষ্টান্ত হলো—
👉 চর্যাপদ
চর্যাপদ একটি বৌদ্ধ সহজিয়া সাধনাগীতি
আবিষ্কার করেন হরপ্রসাদ শাস্ত্রী (১৯০৭ খ্রি.)
চর্যাপদেই প্রাচীন বাংলার ভাষার প্রথম লিখিত নিদর্শন পাওয়া যায়
চর্যাপদের উদাহরণ:
> ভুসুকু বলে শুন গুরুবাক
উপসংহার
প্রাচীন বাংলা ভাষা ছিল সংস্কৃত ও অপভ্রংশ থেকে বিকশিত এক রূপান্তরধর্মী ভাষা। চর্যাপদের মাধ্যমে এই ভাষার ধ্বনি, শব্দ ও বাক্য গঠনের প্রাথমিক রূপ স্পষ্টভাবে ধরা পড়ে। পরবর্তী মধ্য ও আধুনিক বাংলার ভিত্তি এই প্রাচীন বাংলাই রচনা করেছে।
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে বাংলা ভাষার উদ্ভব বা বিবর্তনের ইতিহাস আলোচনা করো।
অথবা,বৈদিক থেকে বাংলা পর্যন্ত ভারতীয় আর্য ভাষার একটি ধারাবাহিক বিবরণ দাও।
উত্তর: ভূমিকা
বাংলা ভাষা ইন্দো–ইউরোপীয় ভাষা পরিবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভাষা। এর মূল উৎস হলো প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা। দীর্ঘকাল ধরে ধ্বনি, শব্দ ও ব্যাকরণগত পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এই ভাষা বিবর্তিত হয়ে বর্তমান বাংলা ভাষার রূপ লাভ করেছে। এই বিবর্তনের ধাপগুলি আলোচনা করা হলো।
১. প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা (Old Indo-Aryan)
এই পর্বে প্রধান ভাষা ছিল বৈদিক সংস্কৃত ও ক্লাসিক্যাল সংস্কৃত।
বৈশিষ্ট্য
জটিল ধ্বনিতত্ত্ব ও রূপতত্ত্ব
৮টি কারক বিভক্তি
তিনটি লিঙ্গ ও তিনটি বচন
সন্ধি ও সমাসের ব্যাপক ব্যবহার
উদাহরণ:
গচ্ছতি (যায়)
রামঃ গৃহং গচ্ছতি
👉 এই ভাষা সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষা ছিল না, মূলত শিক্ষিত ও ধর্মীয় ভাষা ছিল।
২. মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা (Middle Indo-Aryan)
এই পর্বে সংস্কৃতের পরিবর্তিত রূপ হিসেবে প্রাকৃত ও পরে অপভ্রংশ ভাষার বিকাশ ঘটে।
২.১ প্রাকৃত পর্যায়
সময়কাল: খ্রিস্টপূর্ব ৫ম শতাব্দী থেকে খ্রিস্টীয় ৫ম শতাব্দী
বৈশিষ্ট্য:
সংস্কৃতের জটিলতা হ্রাস
বিভক্তির সরলীকরণ
কথ্য রূপের প্রাধান্য
উদাহরণ:
সংস্কৃত পুত্র → প্রাকৃত পুত্ত
কর্ম → কম্ম
২.২ অপভ্রংশ পর্যায়
সময়কাল: খ্রিস্টীয় ৬ষ্ঠ শতাব্দী থেকে ১০ম শতাব্দী
বৈশিষ্ট্য:
ধ্বনিগত রূপান্তর বৃদ্ধি
আধুনিক ভাষার বীজ রোপণ
ক্রিয়াপদের সরল রূপ
উদাহরণ:
করই (আমি করি)
যাই (আমি যাই)
৩. প্রাচীন বাংলা পর্যায়
সময়কাল: খ্রিস্টীয় ৯ম থেকে ১২শ শতাব্দী
এই পর্যায়ে অপভ্রংশ থেকে পৃথক হয়ে বাংলা ভাষা নিজস্ব রূপ পেতে শুরু করে।
বৈশিষ্ট্য
দেশজ শব্দের ব্যবহার
বিভক্তির আরও সরলতা
বাংলা ধাঁচের ক্রিয়ার উদ্ভব
দৃষ্টান্ত:
👉 চর্যাপদ — প্রাচীন বাংলার প্রথম লিখিত নিদর্শন
উদাহরণ:
> ভুসুকু বলে শুন গুরুবাক
৪. মধ্য বাংলা পর্যায়
সময়কাল: ১৩শ থেকে ১৮শ শতাব্দী
বৈশিষ্ট্য
সাহিত্যিক রচনার বিস্তার
বাংলা ভাষার স্থায়ী রূপ গঠন
কাব্য ও ধর্মীয় সাহিত্য রচনা
দৃষ্টান্ত:
মঙ্গলকাব্য
বৈষ্ণব পদাবলি
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন
৫. আধুনিক বাংলা পর্যায়
সময়কাল: ১৯শ শতাব্দী থেকে বর্তমান
বৈশিষ্ট্য
গদ্য ভাষার বিকাশ
মান্য চলিত ও সাধু রীতির উদ্ভব
ইউরোপীয় ভাষার প্রভাব
দৃষ্টান্ত:
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
উপসংহার
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা থেকে প্রাকৃত, অপভ্রংশ এবং প্রাচীন বাংলার মধ্য দিয়ে দীর্ঘ বিবর্তনের ফলে আধুনিক বাংলা ভাষার জন্ম হয়েছে। এই ধারাবাহিক পরিবর্তন বাংলা ভাষাকে একটি সমৃদ্ধ ও স্বতন্ত্র ভাষায় পরিণত করেছে।
বাংলা ভাষার উদ্ভবের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস আলোচনা করো।
উত্তর: ভূমিকা
বাংলা ভাষা বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ ভাষাগুলির একটি। এই ভাষার একটি সুদীর্ঘ ঐতিহাসিক পটভূমি রয়েছে। বহু শতাব্দীর বিবর্তনের মধ্য দিয়ে বাংলা ভাষার বর্তমান রূপ গড়ে উঠেছে।
বাংলা ভাষার মূল উৎস
প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা
বাংলা ভাষার মূল উৎস হলো প্রাচীন ভারতীয় আর্য ভাষা বা সংস্কৃত। প্রথমদিকে সংস্কৃত ছিল মানুষের কথ্য ও সাহিত্যিক ভাষা।
মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষা
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সংস্কৃত ভাষা সহজ হয়ে প্রাকৃত ভাষায় রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীকালে প্রাকৃত ভাষার বিকৃত রূপকে বলা হয় অপভ্রংশ।
সংস্কৃত থেকে বাংলার বিবর্তন
প্রাকৃত ভাষার ভূমিকা
প্রাকৃত ভাষা সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা হওয়ায় এতে ধীরে ধীরে নতুন শব্দ ও রূপ গড়ে ওঠে।
অপভ্রংশ থেকে বাংলা
ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে মাগধী অপভ্রংশ থেকেই বাংলা ভাষার উদ্ভব ঘটে।
বাংলা ভাষার জন্ম ও প্রাচীন নিদর্শন
বাংলা ভাষার আত্মপ্রকাশ
খ্রিস্টীয় ৯ম–১০ম শতাব্দীর মধ্যে বাংলা ভাষা একটি স্বতন্ত্র ভাষারূপে আত্মপ্রকাশ করে।
চর্যাপদ ও আদি বাংলা
বাংলা ভাষার প্রাচীনতম নিদর্শন হলো চর্যাপদ। চর্যাপদের ভাষাকে আদি বাংলা বলা হয়।
মধ্যযুগে বাংলা ভাষার বিকাশ
সাহিত্যচর্চার প্রসার
মধ্যযুগে মঙ্গলকাব্য, বৈষ্ণব পদাবলি ও অনুবাদ সাহিত্যের মাধ্যমে বাংলা ভাষার ব্যাপক বিকাশ ঘটে।
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, বাংলা ভাষা সংস্কৃত → প্রাকৃত → অপভ্রংশ → বাংলা—এই দীর্ঘ বিবর্তনের ফল। এই ধারাবাহিক বিবর্তনই বাংলা ভাষাকে করেছে সমৃদ্ধ ও শক্তিশালী।
বাংলা লিপির উদ্ভব ও বিকাশের ইতিহাস বা ধারা সম্পর্কে নাতিদীর্ঘ নিবন্ধন লেখো।
উত্তর: ভূমিকা
ভাষার প্রকাশের প্রধান মাধ্যম হলো লিপি। বাংলা ভাষার নিজস্ব পরিচয় গড়ে উঠেছে বাংলা লিপির মাধ্যমে। বাংলা লিপির উদ্ভব ও বিকাশ একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ার ফল। নানা পরিবর্তন ও পরিমার্জনের মধ্য দিয়ে বর্তমান বাংলা লিপির রূপ গঠিত হয়েছে।
বাংলা লিপির উদ্ভব
ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে, বাংলা লিপির মূল উৎস হলো ব্রাহ্মী লিপি। ব্রাহ্মী লিপি থেকে ক্রমে গুপ্ত লিপি, এরপর নাগরী লিপি এবং শেষ পর্যন্ত বাংলা লিপি বিকশিত হয়।
খ্রিস্টীয় ৯ম–১০ম শতাব্দী নাগাদ বাংলা লিপি একটি স্বতন্ত্র রূপ লাভ করে।
প্রাচীন বাংলা লিপি
বাংলা লিপির প্রাচীনতম নিদর্শন পাওয়া যায় তাম্রলিপি, শিলালিপি ও চর্যাপদের পুঁথিতে। এই সময়কার অক্ষরগুলো ছিল মোটা, বাঁকানো এবং কিছুটা অস্পষ্ট।
মধ্যযুগে বাংলা লিপির বিকাশ
মধ্যযুগে হাতে লেখা পুঁথির প্রচলনের ফলে বাংলা লিপির আকৃতিতে পরিবর্তন আসে। অক্ষরগুলো আরও স্পষ্ট ও নিয়মবদ্ধ হয়। এই সময়ে যুক্তাক্ষরের ব্যবহার বাড়ে এবং লিপির সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
আধুনিক বাংলা লিপির গঠন
উনিশ শতকে মুদ্রণযন্ত্রের প্রবর্তনের ফলে বাংলা লিপির আধুনিক রূপ গড়ে ওঠে। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বাংলা লিপিকে সহজ ও শুদ্ধ করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। অক্ষরের গঠন, বানান ও চিহ্ন ব্যবহারে শৃঙ্খলা আসে।
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, ব্রাহ্মী লিপি থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলা লিপি পর্যন্ত এই দীর্ঘ যাত্রা বাংলা ভাষার ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করেছে। বাংলা লিপির বিবর্তনের ইতিহাস বাংলা ভাষা ও সাহিত্যচর্চার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
পাট-2
আঞ্চলিক উপভাষা কাকে বলে? বাংলা আঞ্চলিক উপভাষা কয়টি ও কি কি? যেকোনো একটি আঞ্চলিক উপভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক ও রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য বা লক্ষণগুলি উদাহরণসহ লেখো।
উত্তর: আঞ্চলিক উপভাষার সংজ্ঞা
একটি ভাষার ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে উচ্চারণ, শব্দব্যবহার ও ব্যাকরণগত রূপে যে ভিন্নতা দেখা যায়, তাকে আঞ্চলিক উপভাষা বলা হয়। আঞ্চলিক উপভাষাগুলি মূল ভাষারই রূপভেদ।
বাংলা আঞ্চলিক উপভাষার সংখ্যা ও শ্রেণিবিভাগ
বাংলা ভাষার প্রধান আঞ্চলিক উপভাষা
ভাষাতাত্ত্বিকদের মতে বাংলা ভাষার প্রধান ৫টি আঞ্চলিক উপভাষা রয়েছে। এগুলি হলো—
1. রাঢ়ী উপভাষা
2. বঙ্গালী (ঢাকাই) উপভাষা
3. বরেন্দ্রী উপভাষা
4. কামরূপী উপভাষা
5. ঝাড়খণ্ডী উপভাষা
এর মধ্যে রাঢ়ী উপভাষা আধুনিক প্রমিত বাংলার ভিত্তি।
রাঢ়ী উপভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক ও রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
রাঢ়ী উপভাষার পরিচয়
রাঢ়ী উপভাষা মূলত পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা, নদিয়া, হুগলি, বর্ধমান অঞ্চলে প্রচলিত। আধুনিক প্রমিত বাংলা এই উপভাষার উপর প্রতিষ্ঠিত।
ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য (উচ্চারণগত লক্ষণ)
1. অল্পমাত্রিক উচ্চারণ
শব্দের শেষে অকারান্ত ধ্বনি হালকা উচ্চারিত হয়।
উদাহরণ: করো → করো, যাবো → যাবো
2. শুদ্ধ স্বরধ্বনির ব্যবহার
অন্য উপভাষার তুলনায় স্বরধ্বনির বিকৃতি কম।
উদাহরণ: বই, দেশ, মানুষ
3. যুক্তধ্বনির স্পষ্ট উচ্চারণ
যুক্তাক্ষরের উচ্চারণ তুলনামূলকভাবে পরিষ্কার।
উদাহরণ: স্বপ্ন, ক্লান্ত, গ্রাম
রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য (শব্দরূপগত লক্ষণ)
1. ক্রিয়ার প্রমিত রূপের ব্যবহার
ক্রিয়ার রূপ তুলনামূলকভাবে নিয়মবদ্ধ।
উদাহরণ: আমি যাচ্ছি, তুমি করবে
2. বিভক্তির সঠিক ব্যবহার
কারক বিভক্তি স্পষ্টভাবে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: ছেলেটির বই, গাছের পাতা
3. সর্বনামের প্রমিত রূপ
আমি, তুমি, সে—এই সর্বনামগুলো ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ: আমি যাব, সে পড়ে
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, আঞ্চলিক উপভাষা বাংলা ভাষার বৈচিত্র্য ও প্রাণশক্তির পরিচয় দেয়। প্রতিটি উপভাষার নিজস্ব ধ্বনি ও রূপগত বৈশিষ্ট্য রয়েছে। রাঢ়ী উপভাষার উপর ভিত্তি করেই আধুনিক প্রমিত বাংলা ভাষা গড়ে উঠেছে।
রাঢ়ী/বরেন্দি/কামরূপী বঙ্গালী উপভাষার সাধারণ লক্ষণ বা ধ্বনিতাত্ত্বিক রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য গুলি লেখা।
উত্তর:ভূমিকা
বাংলা ভাষা একটি সমৃদ্ধ ভাষা হলেও অঞ্চলভেদে এর উচ্চারণ, শব্দরূপ ও ব্যাকরণে পার্থক্য দেখা যায়। এই অঞ্চলভেদে ভাষার যে ভিন্ন রূপ ব্যবহৃত হয়, তাকে আঞ্চলিক উপভাষা বলা হয়। বাংলা ভাষার প্রধান আঞ্চলিক উপভাষাগুলির মধ্যে রাঢ়ী, বরেন্দি, কামরূপী ও বঙ্গালী উপভাষা উল্লেখযোগ্য।
রাঢ়ী উপভাষার সাধারণ লক্ষণ
ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
উচ্চারণ তুলনামূলকভাবে শুদ্ধ ও প্রমিত
স্বরধ্বনির বিকৃতি কম
যুক্তধ্বনির স্পষ্ট উচ্চারণ
উদাহরণ: স্বপ্ন, গ্রাম, মানুষ
রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
ক্রিয়ার প্রমিত রূপ ব্যবহৃত হয়
বিভক্তির নিয়মিত ব্যবহার
উদাহরণ: আমি যাচ্ছি, সে পড়ছে
➡️ আধুনিক প্রমিত বাংলা মূলত রাঢ়ী উপভাষার উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।
বরেন্দি উপভাষার সাধারণ লক্ষণ
ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
শব্দের শেষে স্বরধ্বনি লোপ পায়
‘স’ ধ্বনি অনেক সময় ‘হ’ হয়ে যায়
উদাহরণ: সে যায় → হে যায়, কথা → কথ
রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
ক্রিয়ার রূপ সংক্ষিপ্ত হয়
সর্বনামের ভিন্ন রূপ দেখা যায়
উদাহরণ: আমি করি → মই করি
কামরূপী উপভাষার সাধারণ লক্ষণ
ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
স্বরধ্বনির ব্যাপক পরিবর্তন
শব্দের উচ্চারণে টান লক্ষ্য করা যায়
উদাহরণ: আমি → মই, তুমি → তুমি/তুঁই
রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
ক্রিয়ার রূপে ভিন্নতা
বিভক্তি ব্যবহারে সরলতা
উদাহরণ: সে খায় → হে খায়
বঙ্গালী (ঢাকাই) উপভাষার সাধারণ লক্ষণ
ধ্বনিতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
উচ্চারণে নাসিক্য ধ্বনির প্রাধান্য
‘শ’, ‘ষ’, ‘স’—এই ধ্বনিগুলির উচ্চারণ প্রায় একরকম
উদাহরণ: শরীর → সরীর
রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য
ক্রিয়ার শেষে বিশেষ ধ্বনি যোগ হয়
সর্বনামের নিজস্ব রূপ আছে
উদাহরণ: আমি যাচ্ছি → আমি যাইতাছি
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, রাঢ়ী, বরেন্দি, কামরূপী ও বঙ্গালী—এই চারটি উপভাষার প্রত্যেকটিরই নিজস্ব ধ্বনিতাত্ত্বিক ও রূপতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই উপভাষাগুলির বৈচিত্র্যই বাংলা ভাষাকে করেছে আরও সমৃদ্ধ ও জীবন্ত।
মিশ্র ভাষা কাকে বলে ? মিশ্র ভাষার উল্লেখ করে এর শ্রেণী গুলি বর্ণনা করে।
উত্তর: মিশ্র ভাষার সংজ্ঞা
যে ভাষা দুই বা ততোধিক ভাষার সংমিশ্রণে গড়ে ওঠে এবং যার শব্দভাণ্ডার, ধ্বনি বা ব্যাকরণে একাধিক ভাষার প্রভাব স্পষ্টভাবে দেখা যায়, তাকে মিশ্র ভাষা বলা হয়।
ভিন্ন ভাষাভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে দীর্ঘদিনের সামাজিক, বাণিজ্যিক বা সাংস্কৃতিক যোগাযোগের ফলেই মিশ্র ভাষার সৃষ্টি হয়।
মিশ্র ভাষা সৃষ্টির কারণ
বিভিন্ন জাতি ও ভাষাভাষীর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ
ব্যবসা-বাণিজ্য ও প্রশাসনিক প্রয়োজন
উপনিবেশ স্থাপন ও শাসনব্যবস্থা
অভিবাসন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন
মিশ্র ভাষার শ্রেণীবিভাগ
ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিতে মিশ্র ভাষাকে প্রধানত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়—
১. পিজিন ভাষা (Pidgin Language)
পরিচয়
পিজিন ভাষা হলো একটি সহজ ও সীমিত মিশ্র ভাষা, যা দুই বা ততোধিক ভিন্ন ভাষাভাষীর মধ্যে যোগাযোগের প্রয়োজনে সৃষ্টি হয়। এটি কোনো জাতির মাতৃভাষা নয়।
বৈশিষ্ট্য
ব্যাকরণ খুবই সরল
শব্দভাণ্ডার সীমিত
দৈনন্দিন যোগাযোগে ব্যবহৃত
উদাহরণ
চিনুক জার্গন
টোক পিসিন (নিউ গিনি)
২. ক্রেওল ভাষা (Creole Language)
পরিচয়
যখন কোনো পিজিন ভাষা দীর্ঘদিন ব্যবহৃত হয়ে একটি জনগোষ্ঠীর মাতৃভাষায় পরিণত হয়, তখন তাকে ক্রেওল ভাষা বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য
পূর্ণাঙ্গ ব্যাকরণ গড়ে ওঠে
শব্দভাণ্ডার বিস্তৃত হয়
সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে ব্যবহারযোগ্য
উদাহরণ
হাইতিয়ান ক্রেওল
মরিশাস ক্রেওল
৩. সংকর বা মিশ্র সাহিত্যিক ভাষা
পরিচয়
যে ভাষায় দুটি বা ততোধিক ভাষার শব্দ ও রীতির পরিকল্পিত সংমিশ্রণ ঘটে, তাকে সংকর বা সাহিত্যিক মিশ্র ভাষা বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য
একাধিক ভাষার শব্দ ব্যবহার
সাহিত্য বা কথ্য ভাষায় প্রভাব
ব্যাকরণ সাধারণত একটি ভাষার
উদাহরণ
হিন্দুস্তানি ভাষা (হিন্দি + উর্দু)
বাংলায় ইংরেজি শব্দের ব্যবহার
যেমন: স্কুল, অফিস, মোবাইল
মিশ্র ভাষার গুরুত্ব
বিভিন্ন ভাষাভাষীর মধ্যে যোগাযোগ সহজ করে
সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানে সহায়ক
নতুন ভাষার জন্ম ও বিকাশে ভূমিকা রাখে
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, মিশ্র ভাষা ভাষার স্বাভাবিক বিবর্তনেরই একটি ফল। পিজিন, ক্রেওল ও সংকর ভাষার মাধ্যমে মানুষের যোগাযোগ আরও সহজ ও কার্যকর হয়েছে। ভাষার এই মিশ্রণই ভাষাকে করেছে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ।
সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও - দ্বিভাষিকতা, বহুভাষিকতা, লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা।
উত্তর: দ্বিভাষিকতা (Bilingualism)
সংজ্ঞা
যখন একজন ব্যক্তি বা একটি সমাজ দুটি ভাষা প্রায় সমান দক্ষতায় ব্যবহার করতে পারে, তখন তাকে দ্বিভাষিকতা বলা হয়।
উদাহরণ
বাংলার সঙ্গে ইংরেজি ব্যবহার
হিন্দি ও উর্দু উভয় ভাষায় কথা বলা
বৈশিষ্ট্য
দুটি ভাষার নিয়ম জানা থাকে
ব্যক্তিগত ও সামাজিক যোগাযোগে ব্যবহৃত হয়
বহুভাষিকতা (Multilingualism)
সংজ্ঞা
যখন একজন ব্যক্তি বা সমাজ দুইয়ের বেশি ভাষা ব্যবহার করতে সক্ষম হয়, তখন তাকে বহুভাষিকতা বলা হয়।
উদাহরণ
বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি জানা
ভারতীয় সমাজে একাধিক ভাষার ব্যবহার
বৈশিষ্ট্য
বিভিন্ন ভাষার শব্দ ও রীতি জানা
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগে সহায়ক
লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা (Lingua Franca)
সংজ্ঞা
যে ভাষা ভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের মধ্যে যোগাযোগের সাধারণ মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তাকে লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা বলা হয়।
উদাহরণ
আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ইংরেজি
মধ্যযুগে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরবি
বৈশিষ্ট্য
মাতৃভাষা না হয়েও ব্যবহৃত হয়
যোগাযোগ সহজ করার জন্য ব্যবহৃত
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, দ্বিভাষিকতা ও বহুভাষিকতা ব্যক্তিগত ভাষাজ্ঞানকে সমৃদ্ধ করে এবং লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা বিভিন্ন ভাষাভাষীর মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধন রচনা করে। এই তিনটি ধারণাই আধুনিক ভাষাতত্ত্বে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
পাট-3
মৌলিক স্বরধ্বনি বলতে কী বোঝায়? রেখাচিত্রের সাহায্যে বাংলা মৌলিক স্বরধ্বনি গুলির পরিচয় দাও।
উত্তর: মৌলিক স্বরধ্বনির সংজ্ঞা
যে স্বরধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় জিহ্বা, ঠোঁট ও চোয়ালের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকে এবং অন্য কোনো স্বরধ্বনির সংমিশ্রণে গঠিত হয় না, তাদেরকে মৌলিক স্বরধ্বনি বলা হয়।
অর্থাৎ, মৌলিক স্বরধ্বনি হলো স্বরধ্বনির মূল ও স্বাধীন রূপ।
বাংলা ভাষার মৌলিক স্বরধ্বনি
বাংলা ভাষায় মোট ৭টি মৌলিক স্বরধ্বনি রয়েছে। এগুলি হলো—
ই, এ, অ্য, আ, অ, উ, ও
এই স্বরধ্বনিগুলি উচ্চারণের সময় জিহ্বার অবস্থান (উচ্চ–নিম্ন) ও মুখগহ্বরের বিস্তারের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।
রেখাচিত্রের সাহায্যে বাংলা মৌলিক স্বরধ্বনি
নিচে একটি সহজ রেখাচিত্র (Vowel Diagram) দেওয়া হলো, যা পরীক্ষায় লেখার জন্য উপযোগী—
(জিহ্বা উঁচু)
ই
এ উ
অ্য
অ ও
আ
(জিহ্বা নিচু)
রেখাচিত্রের ব্যাখ্যা
জিহ্বার অবস্থান অনুযায়ী স্বরধ্বনি
ই → জিহ্বা সবচেয়ে উঁচু অবস্থায়
এ, উ → জিহ্বা মাঝামাঝি অবস্থায়
অ, ও → জিহ্বা অপেক্ষাকৃত নিচে
আ → জিহ্বা সবচেয়ে নিচে
অ্য → মধ্যবর্তী কেন্দ্রীয় স্বরধ্বনি
মৌলিক স্বরধ্বনির বৈশিষ্ট্য
একক স্বরধ্বনি
অন্য স্বরধ্বনির সংমিশ্রণে তৈরি নয়
উচ্চারণে জিহ্বা ও ঠোঁটের নির্দিষ্ট অবস্থান থাকে
দ্বিস্বর বা যৌগিক স্বরের ভিত্তি রচনা করে
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, মৌলিক স্বরধ্বনি বাংলা ধ্বনিতত্ত্বের ভিত্তি। এই স্বরধ্বনিগুলির সঠিক পরিচয় ও উচ্চারণ জানা থাকলে বাংলা ভাষার ধ্বনিগত গঠন সহজে বোঝা যায়। পরীক্ষায় রেখাচিত্রসহ এই আলোচনা করলে ভালো নম্বর পাওয়া যায়।
স্বরধ্বনি কাকে বলে? বাংলা স্বরধ্বনি কয়টি ও কি কি? উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনি গুলির শ্রেণীবিভাগ করে।
উত্তর: স্বরধ্বনির সংজ্ঞা
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে বেরোনো বায়ু মুখগহ্বর দিয়ে বাধাহীনভাবে প্রবাহিত হয় এবং কোনো ঘর্ষণ বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয় না, তাকে স্বরধ্বনি বলা হয়।
স্বরধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বা, ঠোঁট ও চোয়ালের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলা স্বরধ্বনি কয়টি ও কী কী?
বাংলা স্বরধ্বনির সংখ্যা
বাংলা ভাষায় মোট ৯টি স্বরধ্বনি রয়েছে।
বাংলা স্বরধ্বনিগুলি
ই, ঈ, উ, ঊ, এ, ঐ, ও, ঔ, আ
> উল্লেখ্য: ধ্বনিতাত্ত্বিক আলোচনায় দীর্ঘ–হ্রস্ব ভেদ অনেক সময় গৌণ ধরা হয়, তবে পরীক্ষার উত্তরে প্রচলিত রীতিই গ্রহণযোগ্য।
উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনির শ্রেণীবিভাগ
উচ্চারণের সময় জিহ্বার অবস্থান ও মুখগহ্বরের অংশ অনুযায়ী বাংলা স্বরধ্বনিগুলিকে প্রধানত তিনটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়—
১. অগ্র স্বরধ্বনি (Front Vowels)
পরিচয়
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা মুখগহ্বরের সামনের দিকে থাকে, সেগুলিকে অগ্র স্বরধ্বনি বলে।
অগ্র স্বরধ্বনি
ই, ঈ, এ, ঐ
উদাহরণ
ই → ইট
এ → দেশ
২. মধ্য স্বরধ্বনি (Central Vowels)
পরিচয়
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা মুখগহ্বরের মাঝামাঝি স্থানে থাকে, সেগুলিকে মধ্য স্বরধ্বনি বলা হয়।
মধ্য স্বরধ্বনি
আ
উদাহরণ
আ → আম
৩. পশ্চাৎ স্বরধ্বনি (Back Vowels)
পরিচয়
যে স্বরধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা মুখগহ্বরের পিছনের দিকে থাকে, সেগুলিকে পশ্চাৎ স্বরধ্বনি বলে।
পশ্চাৎ স্বরধ্বনি
উ, ঊ, ও, ঔ
উদাহরণ
উ → উঠ
ও → ঘোড়া
(সহায়ক) সরল রেখাচিত্র
অগ্র মধ্য পশ্চাৎ
ই ঈ এ ঐ আ উ ঊ ও ঔ
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, স্বরধ্বনি হলো ভাষার মৌলিক ধ্বনি। বাংলা স্বরধ্বনিগুলিকে উচ্চারণ স্থান অনুযায়ী অগ্র, মধ্য ও পশ্চাৎ—এই তিন শ্রেণীতে ভাগ করলে তাদের উচ্চারণগত বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। পরীক্ষায় সংজ্ঞা, তালিকা ও শ্রেণীবিভাগসহ উত্তর লিখলে ভালো নম্বর পাওয়া যায়।
ব্যঞ্জনধ্বনি কাকে বলে উচ্চারণের প্রকৃতি অনুযায়ী বাংলা ব্যঞ্জন ধ্বনিগুলির পরিচয় দাও।
উত্তর: ব্যঞ্জনধ্বনির সংজ্ঞা
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় ফুসফুস থেকে নির্গত বায়ু মুখগহ্বরে কোথাও না কোথাও বাধা পায় অথবা ঘর্ষণের সৃষ্টি করে, তাকে ব্যঞ্জনধ্বনি বলে।
অর্থাৎ, ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণে জিহ্বা, ঠোঁট, তালু, দন্ত ইত্যাদির সক্রিয় ভূমিকা থাকে।
বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনি : উচ্চারণের প্রকৃতি অনুযায়ী শ্রেণীবিভাগ
উচ্চারণের সময় বায়ুর প্রবাহ কীভাবে বাধা পাচ্ছে—এই প্রকৃতির উপর ভিত্তি করে বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনিগুলিকে প্রধানত চারটি শ্রেণীতে ভাগ করা যায়—
১. স্পর্শধ্বনি (Plosive / Stop)
পরিচয়
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহ সম্পূর্ণরূপে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে হঠাৎ মুক্ত হয়, তাকে স্পর্শধ্বনি বলে।
উদাহরণ (ক-বর্গ থেকে প-বর্গ)
ক, খ, গ, ঘ
চ, ছ, জ, ঝ
ট, ঠ, ড, ঢ
ত, থ, দ, ধ
প, ফ, ব, ভ
📌 যেমন: কলম, দেশ, ফুল
২. নাসিক্য ধ্বনি (Nasal)
পরিচয়
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ু নাসারন্ধ্র দিয়ে বের হয়, তাকে নাসিক্য ধ্বনি বলে।
বাংলা নাসিক্য ধ্বনি
ঙ, ঞ, ণ, ন, ম
উদাহরণ
মা, নাম, গান
৩. পার্শ্বিক ধ্বনি (Lateral)
পরিচয়
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ু জিহ্বার পাশ দিয়ে বের হয়, তাকে পার্শ্বিক ধ্বনি বলে।
বাংলা পার্শ্বিক ধ্বনি
ল
উদাহরণ
লতা, কলম
৪. কম্পিত বা তরল ধ্বনি (Trill / Flap)
পরিচয়
যে ধ্বনি উচ্চারণের সময় জিহ্বা কম্পিত বা দ্রুত আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তাকে কম্পিত ধ্বনি বলে।
বাংলা কম্পিত ধ্বনি
র, ড়, ঢ়
উদাহরণ
রাত, বড়
৫. অর্ধস্বরধ্বনি (Semi-vowel)
পরিচয়
যে ধ্বনিগুলি স্বরধ্বনি ও ব্যঞ্জনধ্বনির মধ্যবর্তী প্রকৃতির, তাদের অর্ধস্বরধ্বনি বলে।
বাংলা অর্ধস্বরধ্বনি
য, ব
উদাহরণ
যাও, বাবা
৬. ঘর্ষধ্বনি (Fricative)
পরিচয়
যে ব্যঞ্জনধ্বনি উচ্চারণের সময় বায়ুপ্রবাহে ঘর্ষণ সৃষ্টি হয়, তাকে ঘর্ষধ্বনি বলে।
বাংলা ঘর্ষধ্বনি
শ, ষ, স, হ
উদাহরণ
শরীর, হাসি
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, ব্যঞ্জনধ্বনি বাংলা ভাষার ধ্বনিতাত্ত্বিক গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উচ্চারণের প্রকৃতি অনুযায়ী ব্যঞ্জনধ্বনিগুলিকে স্পর্শ, নাসিক্য, পার্শ্বিক, কম্পিত, অর্ধস্বর ও ঘর্ষধ্বনিতে ভাগ করলে তাদের বৈশিষ্ট্য সহজে বোঝা যায়। পরীক্ষায় এইভাবে শ্রেণীবিভাগ করে উত্তর লিখলে ভালো নম্বর পাওয়া যায়।
ধ্বনি পরিবর্তনের কারণগুলি আলোচনা করো বাংলা ধ্বনি পরিবর্তনের প্রধান প্রধান ধারা বা সুর গুলোর পরিচয় দাও। ধ্বনির আগম,ধ্বনির লোপ, ধ্বনির রূপান্তর, ধ্বনির স্থানান্তর।
উত্তর: ভূমিকা
ভাষা স্থির নয়; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাষার ধ্বনিগত রূপে পরিবর্তন ঘটে। মানুষের উচ্চারণের সহজতা, সামাজিক পরিবেশ ও ভাষার স্বাভাবিক প্রবণতার কারণে ধ্বনি পরিবর্তন ঘটে। বাংলা ভাষার ইতিহাসে এই ধ্বনি পরিবর্তনের একটি সুস্পষ্ট ধারা লক্ষ করা যায়।
ধ্বনি পরিবর্তনের কারণগুলি
১. উচ্চারণের সহজতার প্রবণতা
মানুষ কঠিন ধ্বনি বা যুক্তধ্বনি সহজ করে উচ্চারণ করতে চায়।
উদাহরণ: দর্শন → দরশন
২. দ্রুত উচ্চারণের প্রভাব
দ্রুত কথা বলার ফলে কিছু ধ্বনি বাদ পড়ে বা রূপ বদলে যায়।
উদাহরণ: করিয়া → করে
৩. সামাজিক ও আঞ্চলিক প্রভাব
ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে ধ্বনির উচ্চারণে পার্থক্য ঘটে।
উদাহরণ: আমি → মই (কামরূপী)
৪. ভাষাসংস্পর্শ
অন্য ভাষার সংস্পর্শে এসে ধ্বনির পরিবর্তন ঘটে।
উদাহরণ: ইংরেজি প্রভাবে—স্কুল, অফিস
৫. স্বাভাবিক ভাষাবিকাশ
ভাষার অভ্যন্তরীণ নিয়ম অনুযায়ী ধ্বনি পরিবর্তিত হয়।
উদাহরণ: কর্তা → কর্তা/কর্তা
বাংলা ধ্বনি পরিবর্তনের প্রধান প্রধান ধারা
বাংলা ভাষায় ধ্বনি পরিবর্তনের প্রধান চারটি ধারা লক্ষ করা যায়—
১. ধ্বনির আগম (Sound Addition)
পরিচয়
যখন কোনো শব্দে পূর্বে না থাকা নতুন ধ্বনি যুক্ত হয়, তাকে ধ্বনির আগম বলা হয়।
প্রকারভেদ
আদ্যাগম (শব্দের শুরুতে ধ্বনি যোগ)
মধ্যাগম (শব্দের মাঝখানে ধ্বনি যোগ)
অন্ত্যাগম (শব্দের শেষে ধ্বনি যোগ)
উদাহরণ
স্কুল → ইস্কুল
রাজা → রাজা-জি
২. ধ্বনির লোপ (Sound Loss)
পরিচয়
যখন কোনো শব্দের ধ্বনি উচ্চারণে বাদ পড়ে যায়, তাকে ধ্বনির লোপ বলা হয়।
প্রকারভেদ
আদ্যলোপ (শুরুতে লোপ)
মধ্যলোপ (মাঝে লোপ)
অন্ত্যলোপ (শেষে লোপ)
উদাহরণ
করিয়া → করে
সপ্তাহ → সাতাহ
৩. ধ্বনির রূপান্তর (Sound Change)
পরিচয়
যখন কোনো ধ্বনি অন্য ধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়, তাকে ধ্বনির রূপান্তর বলা হয়।
উদাহরণ
সপ্ত → সাত
দর্শন → দরশন
৪. ধ্বনির স্থানান্তর (Sound Transposition)
পরিচয়
যখন শব্দের ধ্বনিগুলি নিজেদের স্থান বদল করে, তাকে ধ্বনির স্থানান্তর বলা হয়।
উদাহরণ
অশ্ব → ঘোড়া (রূপান্তরসহ স্থান পরিবর্তন)
পুস্তক → পুঁথি (ধ্বনি বিন্যাস পরিবর্তন)
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, ধ্বনি পরিবর্তন ভাষার স্বাভাবিক ও অবশ্যম্ভাবী প্রক্রিয়া। ধ্বনির আগম, লোপ, রূপান্তর ও স্থানান্তরের মাধ্যমে বাংলা ভাষা ক্রমে সহজ, সাবলীল ও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। এই ধ্বনি পরিবর্তনের ধারাগুলি বাংলা ভাষার ঐতিহাসিক বিকাশকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
টীকা লেখ - শ্রুতি ধ্বনি, স্বরভক্তি বা বিপ্রকষ , লোকনিরুক্তি, জোর কলম শব্দ, অপভাষা, নাসিক্যীভবন, অর্থ বিস্তার, সুভাষন,
উত্তর: ১. শ্রুতি ধ্বনি
সংজ্ঞা: যে ধ্বনি শুনে মানুষের মনে অমর উচ্চারণের প্রভাব সৃষ্টি করে, তাকে শ্রুতি ধ্বনি বলা হয়।
উদাহরণ: সংস্কৃত বা আদি বাংলা ধ্বনিতে শুদ্ধ উচ্চারণ।
২. স্বরভক্তি বা বিপ্রকষ
সংজ্ঞা: শব্দের স্বর ধ্বনির প্রভাব বা স্বরসংযোজনকে স্বরভক্তি বা বিপ্রকষ বলা হয়।
উদাহরণ: কথা → ‘আ’ দীর্ঘায়ন বা স্বরপ্রধানতা।
৩. লোকনিরুক্তি
সংজ্ঞা: সাধারণ মানুষের কথ্য ভাষায় ব্যবহৃত শব্দ, যা সাহিত্যিক বা আদি ভাষার সঙ্গে আলাদা।
উদাহরণ: মাই, তুই, ঘরবাড়ি
৪. জোর কলম শব্দ
সংজ্ঞা: সাহিত্যিক বা কাব্যিক লেখায় বিশেষভাবে উচ্চারণ বা প্রভাব বৃদ্ধি পায় এমন শব্দ।
উদাহরণ: বিস্ময়, বজ্রপাত, চঞ্চল
৫. অপভাষা
সংজ্ঞা: ভাষার মূল রূপের বিকৃত বা পরিবর্তিত রূপকে অপভাষা বলা হয়।
উদাহরণ: প্রাচীন সংস্কৃত → মধ্যযুগীয় অপভ্রংশ → বাংলা ভাষা
৬. নাসিক্যীভবন
সংজ্ঞা: যখন কোনো ধ্বনি নাসারন্ধ্র দিয়ে উচ্চারিত হয়, তাকে নাসিক্যীভবন বলা হয়।
উদাহরণ: ম, ন, ণ, ঞ
৭. অর্থ বিস্তার
সংজ্ঞা: শব্দের প্রাথমিক অর্থ থেকে প্রয়োগে নতুন অর্থ বা ভাবের সৃষ্টি হওয়া।
উদাহরণ: মুখ → শুধু মুখ নয়, ‘সমাজ বা ব্যক্তিত্ব’ বোঝাতেও ব্যবহৃত।
৮. সুভাষন
সংজ্ঞা: সুন্দর উচ্চারণ, শুদ্ধ শব্দচয়ন ও মানানসই ব্যাকরণ ব্যবহার করে বক্তব্যের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করা।
উদাহরণ: শ্রীচরণে প্রণাম, সুন্দর ভাষায় উপদেশ
আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা বা IPA তে রূপান্তর করে।
উত্তর: ভূমিকা
ভাষার লিখিত রূপের সঙ্গে উচ্চারণের প্রায়ই পার্থক্য থাকে। এই সমস্যার সমাধানের জন্য ভাষাতাত্ত্বিকরা একটি সর্বজনীন ধ্বনিলিপি পদ্ধতি তৈরি করেছেন, যা আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা (International Phonetic Alphabet বা IPA) নামে পরিচিত।
আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা (IPA) কী?
IPA-এর সংজ্ঞা
আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা (IPA) হলো এমন একটি বৈজ্ঞানিক বর্ণমালা, যার সাহায্যে পৃথিবীর সব ভাষার উচ্চারণগত ধ্বনি নির্ভুলভাবে লিখে প্রকাশ করা যায়।
👉 এখানে একটি ধ্বনির জন্য একটি নির্দিষ্ট চিহ্ন ব্যবহৃত হয়।
IPA ব্যবহারের গুরুত্ব
শব্দের শুদ্ধ উচ্চারণ বোঝাতে সাহায্য করে
ভাষা শেখা ও শেখানোর ক্ষেত্রে উপযোগী
আঞ্চলিক উচ্চারণের পার্থক্য নির্ণয় সহজ হয়
ধ্বনিতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে অপরিহার্য
বাংলা শব্দের IPA রূপান্তর (উদাহরণসহ)
নিচে কয়েকটি পরিচিত বাংলা শব্দের লিপি → IPA রূপান্তর দেওয়া হলো—
বাংলা স্বরধ্বনির IPA
বাংলা স্বর IPA
অ /ɔ/
আ /a/
ই /i/
উ /u/
এ /e/
ও /o/
বাংলা ব্যঞ্জনধ্বনির IPA (নির্বাচিত)
বাংলা ব্যঞ্জন IPA
ক /k/
খ /kʰ/
গ /g/
চ /tʃ/
জ /dʒ/
ট /ʈ/
ড /ɖ/
ত /t̪/
দ /d̪/
প /p/
ব /b/
ম /m/
ন /n/
র /r/
ল /l/
স /s/
হ /h/
বাংলা শব্দ → IPA রূপান্তরের উদাহরণ
বাংলা শব্দ IPA রূপ
আমি /ami/
বাংলা /baŋla/
ভাষা /bʰaʃa/
দেশ /deʃ/
মানুষ /manuʃ/
ছেলে /tʃʰele/
বই /bɔi/
কথা /kɔt̪ʰa/
IPA লেখার কিছু নিয়ম (সহজভাবে)
IPA সবসময় / / (স্ল্যাশ) এর মধ্যে লেখা হয়
বানান নয়, উচ্চারণ অনুসারে লেখা হয়
দীর্ঘ–হ্রস্ব বা শ্বাসাঘাত আলাদা চিহ্নে প্রকাশ করা যায়
উপসংহার
সবশেষে বলা যায়, আন্তর্জাতিক ধ্বনিমূলক বর্ণমালা (IPA) ভাষার উচ্চারণকে বৈজ্ঞানিকভাবে প্রকাশ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বাংলা ভাষার ধ্বনি IPA-তে রূপান্তর করলে শব্দের প্রকৃত উচ্চারণ স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। পরীক্ষায় সংজ্ঞা, গুরুত্ব ও উদাহরণসহ লিখলে ভালো নম্বর পাওয়া যায়।
পাট-4
শব্দের অর্থ পরিবর্তনের কারণ গুলো আলোচনা করো।
অথবা,শব্দার্থ পরিবর্তনের কারণ বা শব্দার্থ তত্ত্ব বলতে কী বোঝো ?
উত্তর: ভূমিকা
ভাষা কখনো স্থির থাকে না। সময়ের সঙ্গে মানুষের ব্যবহার, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রভাবে শব্দের অর্থ পরিবর্তিত হয়। শব্দের অর্থ পরিবর্তনের কারণ বোঝা ভাষাতত্ত্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শব্দের অর্থ পরিবর্তনের প্রধান কারণ
১. ব্যবহারিক প্রভাব
যখন মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার, কাজ বা সামাজিক প্রয়োজনে শব্দ নতুন অর্থ লাভ করে।
উদাহরণ: মোবাইল → মূলত ফোন নয়, সাধারণভাবে মোবাইল ডিভাইস বোঝায়।
২. সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব
সমাজ ও সংস্কৃতির পরিবর্তনের ফলে শব্দের অর্থ পরিবর্তিত হয়।
উদাহরণ: রাজা → প্রাচীনকালে শাসক, এখন কাব্য বা গল্পে ক্ষমতাধর ব্যক্তি বোঝায়।
৩. আঞ্চলিক প্রভাব
ভৌগোলিক অঞ্চলভেদে শব্দের অর্থে ভিন্নতা দেখা যায়।
উদাহরণ: পশ্চিমবঙ্গে চুরি মানে ‘চেনা ব্যক্তি’, অন্যত্র ‘জিনিস চুরি করা’।
৪. ধ্বনিগত বা শব্দিক পরিবর্তন
উচ্চারণ বা ধ্বনি পরিবর্তনের ফলে শব্দের অর্থও পরিবর্তিত হতে পারে।
উদাহরণ: করিয়া → করে; অর্থ সহজভাবে পরিবর্তিত হয়েছে।
৫. রূপান্তর বা প্রসারণ
শব্দের প্রাথমিক অর্থ থেকে নতুন প্রয়োগে অর্থের বিস্তার ঘটে।
উদাহরণ: মুখ → শারীরিক মুখ থেকে সমাজ বা ব্যক্তিত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত।
৬. উপমা ও রূপক প্রভাব
কাব্যিক বা সাহিত্যিক রূপে শব্দের অর্থ প্রসারিত হয়।
উদাহরণ: সূর্য → কেবল আকাশের নক্ষত্র নয়, শক্তি বা উজ্জ্বলতার প্রতীক।
৭. ভাষাসংস্পর্শ
অন্য ভাষার প্রভাবের ফলে শব্দের অর্থ পরিবর্তিত হতে পারে।
উদাহরণ: ইংরেজি ‘স্কুল’ → বাংলা ভাষায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বোঝাতে ব্যবহার।
শব্দের অর্থ পরিবর্তনের প্রধান প্রধান ধারাগুলি। অর্থ বিস্তার অর্থ সংকোচ এবং অর্থ সংক্রম বা অর্থসংশ্লেষ। সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: ভূমিকা
ভাষা জীবন্ত। সময়ের সঙ্গে শব্দের অর্থও পরিবর্তিত হয়। ধ্বনি, ব্যবহার, সমাজ ও সংস্কৃতির প্রভাবে শব্দের অর্থ বৃদ্ধি, সংকোচ বা সংক্রমিত হয়। এই প্রক্রিয়াগুলোকে ভাষাতত্ত্বে বিশেষভাবে শ্রেণীবদ্ধ করা হয়েছে।
১. অর্থ বিস্তার (Expansion of Meaning)
সংজ্ঞা
যখন কোনো শব্দের প্রাথমিক অর্থ থেকে আরও নতুন বা বিস্তৃত অর্থ প্রকাশিত হয়, তাকে অর্থ বিস্তার বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য
শব্দের অর্থ বৃদ্ধি পায়
ব্যবহারিক বা রূপক প্রভাবে ঘটে
উদাহরণ
মুখ → কেবল শারীরিক মুখ নয়, সমাজ বা ব্যক্তিত্ব বোঝাতেও ব্যবহৃত
সূর্য → শুধু নক্ষত্র নয়, শক্তি ও উজ্জ্বলতার প্রতীক
২. অর্থ সংকোচ (Narrowing of Meaning)
সংজ্ঞা
যখন কোনো শব্দের প্রাথমিক বিস্তৃত অর্থ সীমিত বা বিশেষ অর্থে সীমাবদ্ধ হয়, তাকে অর্থ সংকোচ বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য
শব্দের অর্থ সরু বা নির্দিষ্ট ক্ষেত্র পর্যন্ত সীমাবদ্ধ হয়
সাধারণ ব্যবহারে দেখা যায়
উদাহরণ
ফুল → পূর্বে বিভিন্ন ধরণের ফুল বোঝাত, এখন সাধারণত গাছের ফুল বোঝায়
কাপড় → কেবল পরিধেয় বস্তু বোঝায়
৩. অর্থ সংক্রম বা অর্থসংশ্লেষ (Shift or Transfer of Meaning)
সংজ্ঞা
যখন শব্দের অর্থ সম্পূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়ে অন্য কোনো অর্থ ধারণ করে, তাকে অর্থ সংক্রম বা অর্থসংশ্লেষ বলা হয়।
বৈশিষ্ট্য
শব্দের প্রাথমিক অর্থ নতুন অর্থে রূপান্তরিত হয়
সাহিত্যিক, সামাজিক বা সাংস্কৃতিক প্রভাবে ঘটে
উদাহরণ
মাথা → কেবল দেহের অংশ নয়, নেতৃত্ব বা কর্তৃত্ব বোঝাতে ব্যবহৃত
পদ → শারীরিক পায়ের অংশ নয়, পদবি বা অবস্থান বোঝাতে ব্যবহৃত
বাংলা শব্দ ভান্ডার কাকে বলে? বাংলা শব্দ ভান্ডার মৌলিক শব্দগুলি সম্পর্কে আলোচনা করো।
উত্তর: শব্দভাণ্ডারের সংজ্ঞা
যে সমস্ত শব্দ একটি ভাষায় ব্যবহৃত হয়, তাদের সমষ্টিকে শব্দভাণ্ডার বলা হয়। অর্থাৎ, ভাষার সব ধরণের শব্দের জমাট বা সংগ্রহ হলো সেই ভাষার শব্দভাণ্ডার।
গুরুত্ব
ভাষার প্রাণধারা
সাহিত্য, যোগাযোগ ও বিজ্ঞানচর্চার ভিত্তি
নতুন শব্দ বা ধারণা গ্রহণের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে
বাংলা শব্দভাণ্ডারের মৌলিক শব্দ
মৌলিক শব্দের সংজ্ঞা
যে শব্দ ভাষার আদিম বা প্রাথমিক রূপ থেকে এসেছে এবং অন্য কোনো ভাষা থেকে ধার করা হয়নি, তাকে মৌলিক শব্দ বলা হয়। এগুলো বাংলা ভাষার নিজস্ব।
বৈশিষ্ট্য
স্বাধীনভাবে ব্যবহারযোগ্য
আর কোনো ভাষা থেকে নেওয়া নয়
নতুন শব্দ গঠনের ভিত্তি
উদাহরণ
মানুষ
পানি
আগুন
মাটি
ঘর
ব্যবহার
মৌলিক শব্দই বাংলার বাক্য গঠন, সাহিত্যিক রচনা ও দৈনন্দিন কথোপকথনের মূল উপাদান।
বাংলা শব্দ ভান্ডারে বিদেশি উপাদান গুলি সম্পর্কে উদাহরণসহ আলোচনা করে।
উত্তর: ভূমিকা
বাংলা ভাষা শুধু মৌলিক শব্দের সমষ্টি নয়, এটি বিভিন্ন বিদেশি ভাষার শব্দ গ্রহণ করে সমৃদ্ধ হয়েছে। এই শব্দগুলোকে বিদেশি উপাদান বলা হয়।
সংজ্ঞা
যে শব্দগুলো বাংলায় ধার করা হয়েছে, এবং যার মূল উৎস অন্য ভাষা—যেমন সংস্কৃত, ইংরেজি, আরবি বা ফার্সি—তাদেরকে বিদেশি শব্দ বলা হয়।
বিদেশি উপাদানের প্রধান উৎস ও উদাহরণ
১. সংস্কৃত উপাদান
বাংলা ভাষার সবচেয়ে বড় বিদেশি অংশ।
উদাহরণ: বিজ্ঞান, বিদ্যা, সংসার, ধর্ম, কবিতা
২. সংস্কৃত-সংকর বা অপভ্রংশ
প্রাচীন ভারতীয় ভাষার পরিবর্তিত রূপ থেকে এসেছে।
উদাহরণ: রাজা, দাস, পুস্তক, অমল
৩. আরবি ও ফার্সি উপাদান
মধ্যযুগে বাংলায় মুসলিম শাসক ও সংস্কৃতির প্রভাবে এসেছে।
উদাহরণ: হক, কিতাব, দরবেশ, দোকান, জানালা
৪. ইংরেজি উপাদান
আধুনিক সময়ে কলোনিয়াল ও প্রযুক্তিগত কারণে এসেছে।
উদাহরণ: স্কুল, অফিস, টেলিফোন, কম্পিউটার, ইমেইল
৫. অন্যান্য বিদেশি উপাদান
পর্তুগিজ, চাইনিজ, হোল্যান্ড বা অন্যান্য ভাষার শব্দ।
উদাহরণ: চশমা (পোর্তুগিজ), চা (চাইনিজ), বালতি (হোল্যান্ড)
বিদেশি উপাদানের বৈশিষ্ট্য
1. ভাষার ধ্বনি বা উচ্চারণ বাংলায় সামান্য পরিবর্তিত হয়।
2. বাক্যে ব্যবহার সহজে গ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে।
3. সাহিত্য ও দৈনন্দিন কথোপকথনে সমৃদ্ধি আনে।
টীকা লেখ- তত্ত্ব শব্দ,অর্থ তৎসম শব্দ, আগুন্তক শব্দ, কৃতঋণ শব্দ।
উত্তর: ১. তত্ত্ব শব্দ
সংজ্ঞা:
তত্ত্ব শব্দ হলো সেই শব্দ যা কোনো বিষয়ের মূল ধারণা বা জ্ঞান বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। সাধারণত এটি গভীর অর্থপূর্ণ এবং দার্শনিক বা শিক্ষামূলক প্রসঙ্গে ব্যবহৃত হয়।
উদাহরণ:
জ্ঞান
ধর্ম
বিজ্ঞান
নৈতিকতা
২. অর্থ তৎসম শব্দ
সংজ্ঞা:
তৎসম শব্দ হলো সংস্কৃত থেকে সরাসরি বাংলায় গ্রহণ করা শব্দ। এই শব্দগুলোর উচ্চারণ প্রায় মূল সংস্কৃত শব্দের মতো থাকে।
উদাহরণ:
অমল (শুদ্ধ)
চেতনা (জ্ঞান, সচেতনতা)
সৌন্দর্য (সুন্দরতা)
মৃত্যু (মৃত্যু)
৩. আগুন্তক শব্দ
সংজ্ঞা:
আগুন্তক শব্দ হলো সেই শব্দ যা বাংলা ভাষায় বিদেশি ভাষা থেকে এসেছে। এগুলো মূলত বিদেশি উৎস থেকে ধার করা হয়।
উদাহরণ:
স্কুল (ইংরেজি)
দরজা (ফারসি)
কিতাব (আরবি)
টেলিভিশন (ইংরেজি)
৪. কৃতঋণ শব্দ
সংজ্ঞা:
কৃতঋণ শব্দ হলো এমন শব্দ যা সংস্কৃত বা অন্যান্য ভাষা থেকে আংশিক পরিবর্তন বা বাংলা রূপে গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থাৎ, মূল শব্দকে কিছুটা বাংলায় রূপান্তর করা হয়েছে।
উদাহরণ:
পাঠশালা (পাঠ + শালা)
বিদ্যাপীঠ (বিদ্যা + পীঠ)
রাজকুমার (রাজা + কুমার)
দানব (দান + দেব)
💡 সারসংক্ষেপ:
তত্ত্ব শব্দ: বিষয়ের মূল জ্ঞান বোঝায়।
তৎসম শব্দ: সংস্কৃত থেকে আগত, প্রায় অপরিবর্তিত।
আগুন্তক শব্দ: বিদেশি ভাষা থেকে ধার করা।
কৃতঋণ শব্দ: বিদেশি বা সংস্কৃত শব্দকে আংশিক বাংলায় রূপান্তর।
শব্দের ব্যুৎপত্তি নির্ণয় করে।
উত্তর: শব্দের ব্যুৎপত্তি (Etymology of Words)
শব্দের ব্যুৎপত্তি বলতে আমরা বুঝি – একটি শব্দ কোথা থেকে এসেছে, তার মূল রূপ কী, এবং কিভাবে সেই শব্দ বাংলায় এসেছে। এটি ভাষার ইতিহাস এবং শব্দের বিকাশ বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
১. বাংলা শব্দের উৎস
বাংলা ভাষার শব্দ প্রধানত তিন ধরনের উৎস থেকে এসেছে:
1. মূলতঃ সংস্কৃত থেকে উদ্ভূত শব্দ
এগুলোকে বলা হয় আদিশব্দ বা মৌলিক শব্দ।
উদাহরণ:
নদী → সংস্কৃত নদী
বন্ধু → সংস্কৃত বন্দু
দেব → সংস্কৃত দেব
2. বিদেশি উপাদান বা ঋণশব্দ
বাংলা ভাষা বিভিন্ন সময়ে বিদেশি ভাষা থেকে শব্দ গ্রহণ করেছে।
উদাহরণ:
ইংরেজি → স্কুল, টেলিভিশন
ফারসি → দরজা, বাগান
আরবি → কিতাব, মাসজিদ
3. স্থানীয় বা আঞ্চলিক শব্দ
এই শব্দগুলো মূলত বাংলার মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এসেছে।
উদাহরণ:
মাছ, পুকুর, আম
২. শব্দের গঠন এবং ব্যুৎপত্তি
প্রতিটি শব্দের একটি মূল রূপ থাকে।
উদাহরণ:
“বই” শব্দের মূল রূপ সংস্কৃত পুস্তক থেকে এসেছে।
“আনন্দ” শব্দ সংস্কৃত আনন্দ থেকে এসেছে, যার অর্থ খুশি বা সুখ।
৩. কেন শব্দের ব্যুৎপত্তি জানা গুরুত্বপূর্ণ?
1. ভাষার ইতিহাস বোঝা যায়।
2. শব্দের প্রকৃত অর্থ জানা যায়।
3. সাহিত্য বা কবিতা বোঝার ক্ষেত্রে সাহায্য করে।
💡 সারসংক্ষেপ:
শব্দের ব্যুৎপত্তি মূলত ভাষার উত্স এবং ইতিহাস বোঝায়। বাংলা ভাষা সংস্কৃত, ফারসি, আরবি, ইংরেজি এবং আঞ্চলিক উপাদান থেকে শব্দ নিয়েছে। শব্দের মূল রূপ জানলে আমরা সহজে তার অর্থ এবং ব্যবহার বুঝতে পারি।

0 মন্তব্যসমূহ